উদ্ধারের পর যা জানালেন ত্ব-হা

আট দিন নিখোঁজ থাকার পর তরুণ ইসলামী বক্তা আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানের সন্ধান মিলেছে। তিনি রংপুর মহানগর পুলিশের (আরএমপি) কোতোয়ালি থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।

কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রশীদ জানান, শুক্রবার দুপুরে তিনি রংপুর নগরীর কলেজ রোডে তার প্রথম স্ত্রীর বাবার বাড়িতে আসেন। পরে তাকে থানায় পুলিশ হেফাজতে আনা হয়। থানা থেকে পরে আদনানকে রংপুরের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

রংপুর নগরীর সেন্ট্রাল রোডে আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানের বাড়ি।

আবু ত্ব-হার আইনজীবী ব্যারিস্টার এম. সরোয়ার রহমান বলেন, নিখোঁজ আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানসহ চারজনকে পাওয়া গেছে। আজ ভোরে ফজরের নামাজ শেষে তিনি তার রংপুর নগরের বাসায় ফেরেন। বাসায় ফেরার পর তার স্ত্রীকে ফোনে জানান, তিনি ফিরেছেন। তবে কীভাবে ফিরলেন, কোথা থেকে ফিরলেন এসব বিষয় আপাতত তার স্ত্রীকে কারও সঙ্গে শেয়ার না করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে রংপুর মহানগর পুলিশের (আরএমপি) ক্রাইম ডিভিশনের উপ-কমিশনার আবু মারুফ হোসেন বলেন, আবু ত্ব-হাকে পাওয়া গেছে। তিনি উদ্ধার হয়েছেন। এই মুহূর্তে এইটুকু তথ্য আছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত দ্রুত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের জানানো হবে।

৮ জুন থেকে খোঁজ না পাওয়া ত্ব-হাকে ১০ দিন পর দেখা যায় রংপুর শহরে আবহাওয়া অফিসের মাস্টারপাড়ায় শ্বশুর বাড়িতে। তার শ্বশুরের নাম আজহারুল ইসলাম। ত্ব-হা বিয়ে করেছেন দুটি। আজহারুল তার প্রথম স্ত্রীর বাবা।

শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে ত্ব-হা সেই বাড়িতে ফেরেন। আর তার সেখানে ফেরার সময় দেখেছেন স্থানীয় দুই বাসিন্দা বিপ্লব মিয়া ও মো. খোকন।

বিপ্লব মিয়া বলেন, ‘একাই পেছনের দরজা দিয়ে শ্বশুর বাড়ি ঢুকেন। খালি শুধু একটা হাফ হাতা গেঞ্জি আর পায়জামাটা আর মাস্ক পরা ছিল। আর কোনো কিছু ছিল না।’

তিনি বলেন, ‘সাড়ে ১২টার দিকে এখানে নামি আমার গলির দিকে আসছে। ওনার বাড়ির পেছনে একটা দরজা আছে। পেছনের দরজা দিয়ে ঢুকছে।’

ত্ব-হাকে দেখে তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন আরেক প্রত্যক্ষদর্শী মো. খোকন। তিনি তার শ্বশুর বাড়ি পর্যন্ত যান। ত্ব-হাকে দেখে তিনি যখন প্রশ্ন করেন, তখন জবাব পান- ‘এখন কিছু বলতে পারবো না।’

খোকন বলেন, ‘আমি দেখলাম আমার বাড়ির সামনে দিয়া আসতেছে। তখন আমি কামের মধ্যে ছিলাম। তাকে বললাম, কী ব্যাপার, আপনি এদিক থেকে যাইতেছেন?’

মুখে আঙ্গুল রেখে ত্ব-হা কী ইশারা করেছেন, সেটি বুঝিয়ে তিনি বলেন, ‘তখন তিনি বলেন, চুপ কর, চুপ কর। কোনো কথা হবে না। পরে আলাপ হবে। এই কথা বলে, তখন তিনি চলে গেলেন।’

সেখানে থেমে না থেকে উৎসুক হয়ে ওঠা খোকন চলে যান ত্ব-হার শ্বশুরবাড়ি। তবে সেখানে গিয়েও তিনি তার প্রশ্নের জবাব পাননি।

খোকন বলেন, আমি কিছু বললাম না (ত্ব-হার বক্তব্য শোনার পর)। তখন আমি ওনার বাসায় (শ্বশুর বাড়ি) গেলাম। যাওয়ার পরে ওনার শালি বলল, ‘এখন কোনো কথা বলবে না। কালকে ব্রিফিং হবে তখন তিনি কথা বলবে। এই পর্যন্তই আমি ছিলাম। পরে আমি চলে আসলাম।

ত্ব-হা ছিলেন একজন ক্রিকেটার। তবে গত কয়েক বছরে ধর্মে ঝুঁকে পড়েন। আর খেলাধুলা ছেড়ে এক পর্যায়ে ইসলামের নানা দিক নিয়ে বক্তব্য দিতে থাকেন। তার নাম, মো. আফছানুল আদনান কিন্তু সবার কাছে তিনি আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান নামেই সবার কাছে পরিচিত। ৩১ বছর বয়সী এই তরুণ বক্তার বাড়ি রাজশাহী হলেও তিনি রংপুর জেলায় নানা বাড়িতে বড় হয়েছেন। ২০১৮ সালে আলোকিত জ্ঞানী প্রতিযোগিতায় প্রথম রানার আর্প হয়েছিলেন তিনি।

গত ১০ জুন রংপুর থেকে ঢাকায় আসার পথে ইসলামী বক্তা আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান নিখোঁজ হন। এছাড়াও তার সঙ্গে নিখোঁজ হন আব্দুল মুহিত, মোহাম্মদ ফিরোজ ও গাড়িচালক আমির উদ্দীন। তবে কোথা থেকে কীভাবে নিখোঁজ হন এমন তথ্য দিতে পারছিল না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও।

অনেকে অভিযোগ তুলছিল, সমসাময়িক অন্যান্য ইস্যুতে আন্তরিকতা দেখালেও ত্ব-হার নিখোঁজের বিষয়ে তেমন কোনো তৎপরতা দেখাচ্ছে না সরকার। এই নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছিল।

ত্ব-হার নিখোঁজ হওয়ার তথ্য জানিয়ে দারুসসালাম এবং মিরপুর থানায় গেলে কোনো থানাই সাধারণ ডায়েরি বা মামলা গ্রহণ করেনি বলেও অভিযোগ করেছেন তার পরিবার। এ নিয়ে সর্বশেষ রংপুর সদর থানায় একটি জিডি করা হয়।

ত্ব-হার মা আজেদা বেগম জানিয়েছিলেন, গত ১০ জুন সকালে তাকে ত্ব-হা জানিয়েছিলেন, বেশ কদিন ধরে দুই অপরিচিত ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করছে। এ নিয়ে জীবন শঙ্কায় আছেন তিনি। তারা তার ক্ষতি করতে পারে। ঢাকায় চলে যেতে চান তিনি, ঢাকায় গেলে নিরাপদে থাকবেন।

আজেদা বেগম বলেন, ‘ওইদিন বিকেল ৪টার দিকে ত্ব-হা তার তিন অনুসারীসহ ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। শুক্রবার সাভারের একটি মসজিদে বক্তৃতা শেষ করে কিছুদিন ঢাকায় থাকার কথা ছিল তার। ঢাকায় যাবার সময় হঠাৎ আমাকে বুকে জড়িয়ে খুব কান্না করছিল ত্ব-হা। নামাজে সেজদায় পড়ে তার নিরাপত্তা ও নিরাপদে ফিরে আসার জন্য দোয়াও করতে বলেছিল। এরপর ওই রাত থেকেই নিখোঁজ ত্ব-হা।’

Check Also

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিয়ের গেটের ডিজাইনকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের সংঘর্ষ, আহত ২০

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় বিয়ে বাড়ির গেটের ডিজাইনকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন …

Leave a Reply

Your email address will not be published.