Tuesday , September 21 2021

সাগর তলদেশে ৩ টুকরো হয়ে পড়ে আছে ইন্দোনেশিয়ার সাবমেরিন; কীভাবে হলো এসব?

ইন্দোনেশিয়ায় নিখোঁজ নৌবাহিনীর সাবমেরিনটি তিন টুকরো অবস্থায় বালি দ্বীপের সমুদ্রের তলায় পাওয়া গেছে। এতে থাকা ৫৩ নাবিকের সবাইকেই মৃত ঘোষণা করা হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার সামরিক ও নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা রোববার একথা জানিয়েছেন। মারা যাওয়া নাবিকদের স্বজনদের এরই মধ্যে সমবেদনা জানিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো।

তিনি বলেন, “মর্মান্তিক এ ঘটনায় আমরা সব ইন্দোনেশীয়ই গভীর দুঃখ প্রকাশ করছি। বিশেষ করে সাবমেরিনের নাবিকদের পরিবারের সদস্যদের জানাচ্ছি গভীর সমবেদনা।”

গত বুধবার ডুবে যাওয়া সাবমেরিনটির হদিস পাওয়া যায় সাগরের ৮৫০ মিটার গভীর তলদেশে। এটি তিন খণ্ড হয়ে ভেঙে গেছে বলে জানিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনীর চিফ অব স্টাফ এডমিরাল ইয়োদো মারগোনো।

জাহাজের পাটাতন, সামনের অংশ এবং মূল অংশ সবকিছুই টুকরো হয়ে গেছে বলে জানান তিনি। সিঙ্গাপুরের একটি উদ্ধারকারী জাহাজ ব্যবহার করে ভাঙা সাবমেরিনের ছবি তুলে আনা হয় বলে জানানো হয়েছে বিবিসি’র প্রতিবেদনে।

ইন্দোনেশিয়ার সামরিক কমান্ডার এয়ার চিফ মার্শাল হাদি রোববার বলেছেন, “নাংগালা-৪০২ সাবমেরিনের টুকরোগুলো আমরা খুঁজে পেয়েছি এবং ছবিতে দেখা যাওয়া টুকরোগুলো এই সাবমেরিনের বলে নিশ্চিত করছি।”

“এই প্রমাণের ভিত্তিতে আমি ঘোষণা দিয়ে জানাচ্ছি যে, নাংগালা সাবমেরিন ডুবে গেছে এবং এর সব নাবিকও মারা গেছে।”

এর আগে শনিবার সাবমেরিনটি পুরোপুরি ডুবে যাওয়ার খবর নিশ্চিত করেছিল সেনাবাহিনী। কেআরআই নাংগালা-৪০২ সাবমেরিন বুধবার বালি সাগরে এক সামরিক মহড়ার সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে নিখোঁজ হয়।

সাবমেরিনটির ডুবে যাওয়ার কারণ এখনও পরিষ্কার জানা যায়নি। তবে ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনীর চিফ অব স্টাফ এডমিরাল ইয়োদো মারগোনো বলছেন, মানুষের ত্রুটি নয় বরং প্রাকৃতিক বা পরিবেশগত কোনও কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত আর কিছু বলেননি তিনি।

অনুসন্ধানী দল শনিবার সাবমেরিনের কিছু ধ্বংসাবশেষসহ একটি জায়নামাজ, সাবমেরিনের নোঙ্গর এবং নাবিকদের সুরক্ষা পোশাকের অবশিষ্ট অংশ খুঁজে পায়।

হারিয়ে যাওয়ার সময় সাবমেরিনটিতে শুধু তিন দিনের অক্সিজেন মজুদ ছিল। তাই তিনদিন পেরিয়ে যাওয়ার পর ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান নাবিকদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

৪৪ বছরের পুরোনো সাবমেরিনের খোঁজে যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হয়েছিল। বিমান থেকে চালানো অনুসন্ধানে সাবমেরিনটি পানিতে ডুব দেওয়ার জায়গার কাছে তেল ছড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল বলে জানিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

এসময় স্ক্যান করে সাগরের প্রায় ৮৫০ মিটার গভীরে সাবমেরিনটির উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছিল এবং জলযানটি ছিল তার স্বাভাবিক সীমার অনেক নিচে। উদ্ধারকাজে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ভারত সহায়তা করেছে বলে জানায় বিবিসি।

সাবমেরিনটি জার্মানির তৈরি। ইন্দোনেশিয়ার পাঁচটি সাবমেরিনের একটি এটি। দেশটির নৌবাহিনীর একজন মুখপাত্র বিবিসি;কে বলেছেন, ইন্দোনেশিয়া এই প্রথম কোনও সাবমেরিন খোয়াল।

পাঠকের মন্তব্য:

Check Also

ভিক্ষুকের বিলাসী জীবন, রয়েছে কোটি টাকার দুটি অ্যাপার্টমেন্ট!

ভিক্ষুকের বিলাসী জীবন, রয়েছে কোটি টাকার দুটি অ্যাপার্টমেন্ট!

ভারতে এক ভিক্ষুকের মাসিক আয় ও সম্পত্তির পরিমাণ শুনলে চোখ কপালে উঠবে। ভরত জৈন (৫০) …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *