Monday , January 24 2022

সৌদি আমা’র জীবন শেষ করে দিয়েছে- আর কেউ যেন সৌদিতে না আসে

বাবার ক’ষ্টের উপার্জনের টাকা দালালের হাতে তুলে দিয়েও কুলসুম এই ভেবে খুশি ছিলেন যে, তাকে বিদেশে পা’ঠানো র সব প্রক্রিয়া শেষ ক’রেছেন ওই দালাল। এক বুক স্বপ্ন নিয়ে চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি বিমানবন্দরে হাজির হন কুলসুম।ওই দিন রাতের ফ্লাইটে রওনা হন সৌদি আরবের উদ্দেশে। দালালের সহযোগিতায় এই পুরো কাজটি করে দেয় ‘বেসকো ইন্টারন্যাশনাল’ নামের একটি ট্রাভেল এজেন্সি।

কিন্তু সৌদি আরবের মাটিতে পা দিয়েই কুলসুমের জীবনে নেমে আসে অ’ন্ধকার। কারণ কারখানায় কাজে’র কথা বলে তাকে নিয়ে যাওয়া হলেও সেখানে একটি বাসায় গৃহক’র্মী র কাজ দেওয়া হয় কুলসুমকে। নিয়তিকে মেনে নিয়ে সেই বাসায় গৃহক’র্মী র কাজেই যোগ দেন কুলসুম।

কয়েক দিন যেতেই তার ওপর নেমে আসে নানা ধ’রনের অ;;ত্যা;চা;র-নি;;র্যা;ত;ন। কুলসুম বেগম। গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জে’লায়। বাবা ও বড় ভাইয়ের স’ঙ্গে রাজধানীর পুরান ঢাকায় বসবাস করেন। বাবা ভাইয়ের বোঝা হয়ে সংসারে থাকতে চাননি তিনি। নিজেকে স্বাবলম্বী ক’রতে নানা চেষ্টা করেও ব্য’র্থতার কারণে হ;তা;শ হয়ে প’ড়েছিলেন।

২০১৭ সালের শেষের দিকে ট্র্যাভেল এজেন্সির এক দালালের মাধ্যমে তিনি স্বপ্ন দে’খতে শুরু করেন স্বাবলম্বী হওয়ার। ট্রাভেল এজেন্সির দালাল কুলসুম বেগমকে বোঝান, বিনা খরচে সৌদি আরবে গিয়ে সেখাকার কারখানায় কাজ করে অর্থ উপার্জন ক’রতে পারবেন তিনি। বিনা খরচে বলা হলেও সৌ’দি আরবের পা’ঠানো র আগেই নানা অজুহাতে কয়েক হাজার টাকা হা;তিয়ে নেন ওই দালাল।

সব কিছু মুখ বুঝে স;;হ্য করেও কু;লসুম তার কাজ চা;লিয়ে যান। পরদেশ, ভিন্ন পরিবেশ ও আবহাওয়ার স’ঙ্গে খাপ খাওয়ানো এবং একই স’ঙ্গে গৃহক’র্তা ও গৃহক’র্তীর নি’র্যা’তনে শা;রী;রিকভাবে অ’সু;স্থ হয়ে প’ড়েন কুলসুম। তবুও চলছিল মেনে নেওয়ার ল;;ড়া;ই। কিন্তু এত কিছুর পরেও যখন মাস শেষে তার বেতনের টাকাও সময় মতো পাচ্ছিলেন না, তখনই কুলসুম সি’দ্ধান্ত নেন, আর ভিনদেশে থাকবেন না।

ফি’রে যাব’েন বাবা-ভাইয়ের কাছে, ফি’রে আসবেন নিজে’র দেশে। কিন্তু ততদিনে কে’টে গেছে প্রায় ৬ মাস। এরপর দেশে ফি’রে আসার জন্য সৌদি আরবের সেই এজেন্সির স’ঙ্গে যোগাযোগ করেন কুলসুম। কিন্তু সেখানকার ম্যানেজার শফিক আহমেদ তাকে কোনোভাবেই সহযোগিতা করেননি বলে অ’ভি’যোগ করেন কুলসুম।

যে বাসায় কুলসুম কাজ ক’রতেন, সেখানে ঠিকমতো খাবার দেওয়া ‘হতো না কুলসুমকে। তাই এক দিন বাধ্য হয়ে গো’প;নে কাঁ’দ;তে কাঁ;দ’তে ফোন করেন বড় ভাই গোলজার হোসেনকে। বাংলাদেশে থাকা বড় ভাই গোলজারকে কুলসুম বলেন, ‘ভাই আমি ১১ দিন পর একটা খেজুর খাইছি। আমা’রে তুই বাঁ’চা, আমা’রে তুই নিয়ে যা।

পাঠকের মন্তব্য:

Check Also

শিমুকে হত্যার সময় পাশের রুমেই ছিলো মেয়ে-ছেলে!

অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমুকে হত্যার সময় পাশের রুমেই ঘুমাচ্ছিলো তার বড় মেয়ে অজিহা আলিম রিদ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *