Friday , September 24 2021

আপনার জীবনে সুখ পেতে হলে এখুনি বাদ দিতে হবে এই ৮ চিন্তা, দেখে নিন।

অধিকাংশ নেতিবাচক অনুভূতি সৃষ্টি হয় অযৌক্তিক বা ভুল ধারণা থেকে। এ বিষয়ে চিকিৎসক ও মনোবিদেরা একমত। তাঁদের মতে, ভালো বা সুখী থাকার জন্য ইতিবাচক ও সঠিক চিন্তা করা প্রয়োজন। কিছু সাধারণ ভুল ধারণা আছে, যা মানুষের সুখের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এমনই কিছু ভুল ধারণার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের মনোবিদ অ্যালবার্ট এলিস।

আপনাকে সবাই পছন্দ করবে
অনেকেই মনে করেন, সবাই তাঁকে পছন্দ করবেন। কিন্তু বাস্তবে তা হয় না। খুব স্বাভাবিকভাবেই সবাই সবার পছন্দের পাত্র হন না। আর সবার পছন্দের পাত্র যে হতেই হবে, এমন ভাবনাও ভুল।

আপনি সবকিছুর যোগ্য
আপনাকে সবকিছু পারতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। তা ছাড়া সবার পক্ষে সবকিছু করা সম্ভবও না। যে বিষয়টি বেশি উপভোগ করবেন, সে বিষয়টি মনোযোগ দিয়ে করুন।

মনমতো না হলে মহাপ্রলয়
সবকিছু মনমতো হওয়া চাই-ই চাই—অনেকের মধ্যে এমন একটা প্রবণতা আছে। কিন্তু আদৌ কি তা সম্ভব? সব কাজ সব সময় মনমতো নাও হতে পারে। তাই বলে বিষয়টি নিয়ে সারাক্ষণ হাঁসফাঁস করার কোনো মানে নেই। ইচ্ছার বিরুদ্ধের ফলগুলো গ্রহণ করতে শিখুন। সম্ভাব্য সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য মনকে প্রস্তুত রাখুন।

বিপদ নিয়ে আগাম দুশ্চিন্তা
বড় ধরনের বিপদ আসতে পারে ভেবে অনেকেই আগাম দুশ্চিন্তা করেন। আগাম দুশ্চিন্তায় হয়রান বাড়ে, বাড়ে মানসিক চাপ। অনেক সময় দেখা যায়, যে বিষয় নিয়ে ব্যাপক দুশ্চিন্তা করেছেন, তা শেষ পর্যন্ত ঘটেইনি। তাই সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে বরং পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়া ভালো।

অতীতই সবকিছু
অতীতের কোনো কিছুই বদলাতে পারবেন না। কিন্তু বর্তমান ও ভবিষ্য নিয়ে অনেক কিছু করার আছে। অতীতে যা ঘটেছে, তা নিয়ে পড়ে থেকে বর্তমান নষ্ট করবেন না। সামনে এগিয়ে যান।

সবাই বদলে গেছে
আপনার কাছের মানুষজন সবাই বদলে গেছে—এমন ধারণা পোষণ করবেন না। আপনার চেয়ে সবাই বেশি সুখী, এটা ভাবাও ঠিক নয়। এ ধরনের ভাবনা থেকে হতাশা পেয়ে বসে।

বসে থাকলে সুখ আসে
চুপচাপ বসে থাকলে সুখ আসবে, এই ধারণা ভুল। অলস মস্তিষ্কে নানান চিন্তা বাসা বাধে। সুখ নষ্ট করে দেয়। ভালো থাকতে নিজেকে সক্রিয় রাখুন। কিছু না কিছু কাজ করুন। নিয়মিত ব্যায়াম, সৃজনশীলতার চর্চা, নতুন মানুষের সঙ্গে মেশা, নতুন কিছু শেখার মতো বিষয়গুলো সুখ বাড়িয়ে দেয়।

দায়িত্ব ও কঠিন সময় এড়ানো
সুখের জন্য অনেকে জীবনের দায়দায়িত্ব ও কঠিন সময় এড়িয়ে চলতে চান। কিন্তু এতে সুখ আসে না। দায়িত্ব পালনের মধ্যে বাহাদুরি আছে। সংকট মোকাবিলার মধ্যে বীরত্ব আছে। দায়িত্ব নিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পথ চলাতেই জীবনের আনন্দ।

সুখী হওয়ার এই ৫টি নিয়ম জানলেই আজকে থেকেই পালন করা শুরু করবেন….

সবাই সু’খী হতে চায়। কিন্তু হবে কি করে। কোথায় গেলে পাবেন সুখের সন্ধান। সত্যিই কি এমন কোনও ফর্মুলা আছে, যা মেনে চললে সুখের সন্ধান মেলে? হ্যা! আর সেই ফর্মুলারই সন্ধান দেওয়া হল এই প্রবন্ধে। সত্যিই কি এমন কোনও ফর্মুলা আছে, যা মেনে চললে সুখের সন্ধান মেলে? হ্যা! আর সেই ফর্মুলারই সন্ধান দেওয়া হল এই প্রবন্ধে।

১.দুঃখের দিনে ভাবুন সুখের কথা
বাচ্চারা যখন খুব কাঁদে তখন কী করেন? হাতে একটা লজেন্স ধরিয়ে দেন, আর আমনি কান্না হাসিতে বদলে যায়। তাই না! তেমনি মন যখন ভার থাকবে তখন ভাল সময় বা সুখস্মৃতির কথা ভাববেন। দেখবেন মন ভাল হয়ে যাবে। ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী বলেছিলেন, “যখন আমার ব্যাটিং ভাল যেত না, তখন আমি সেঞ্চুরি করা ম্যাচগুলির ভি’ডিও দেখতাম। তাতে ব্যাটিং-এ উন্নতি না ঘটলেও পারফরমেন্স ভাল করার জন্য মনের জোর খুব বেড়ে যেতে।” কী বুঝলেন। মনও একটা বাচ্চারই মতো, তাকে যদি ভুলিয়ে রাখতে পারেন তাহলেই সুখী!

২.মন খারাপকে পালাতে বাধ্য করুন
শুনতে হয়তে একটু আজব লাগছে। কিন্তু দুঃখ দূরে রাখার একটা অসাধারণ উপায় এটি। মনোবিদরা বলেন, যেটায় ভয় হয় সেটা থেকে পালাবেন না। বরং তার সামনাসামনি হন, তাহলে দেখবেন ভ’য় পালিয়ে যাবে। একইভাবে যে কারণেই মন খারাপ হোক না কেন, সেই মন খারাপের মুহূর্তটাকে ভাল করে অনুভব করুন। দেখবেন নিমেষে মন ভাল হয়ে যাবে।

৩.স”ম্পর্কের চাপ থাকে বেরিয়ে আসুন
কথাটি বলা যতটা সহজ, করা ততটাই কঠিন। কিন্তু সুখে থাকতে গেলে যে করতেই হবে! আর কোনো উপায়ও নেই। কারণ যে সব মানুষ সারা দিন আপনাকে পিষে চলেছেন তাদের স’ঙ্গ থেকে বেরিয়ে না আসলে সুখের দেখা পাবেন না। এমন খারাপ স”ম্পর্ক নিয়ে সুখী থাকা দূরে থাক বাঁচাও খুব কঠিন। আর যদি একান্তই এমন মানুষদের সঙ্গে ছাড়া সম্ভব না হয়, তাহলে যতটা কম সময় পারবেন এমন মানুষদের থেকে দূরে থাকবেন।

৪.দয়াবান হতে শিখুন
দালাই লামা বলেন, “অন্যকে ক্ষমা করতে পারলেই আনন্দের সন্ধান পাবেন।” কথাটা ঠিক। কিন্তু করাটা বাস্তবে খুব কঠিন। যে মানুষগুলোর জন্য আমি আজ এত কষ্টে আছি, তাদের ক্ষমা করা কি সম্ভব? হয়তো নয়। কিন্তু করতে যে হবে। কারণ মনে বি”ষের পরিমাণ বাড়লে সুখের পরিমাণ কমে যায়।

৫.“না” বলাটা খুব জরুরি
ছোট থেকে আমাদের মধ্যে অনেকেই হয়তো এই কথাটা শুনে আসছেন। কিন্তু করতে পারছেন ক’জন বলুন। আমরা আশেপাশের লোক খুশি করতে গিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে এমন অনেক কাজ করি, যা হয়তো বাকিদের আনন্দ দেয়, কিন্তু দিনের শেষে আমরা নিজেরাই অসুখী।

যেমন, আমাদের মাঝে মধ্যেই সামাজিকতার খাতিরে এমন আত্মীয়ের বাড়ি যেতে হয় যারা আমাদের পছন্দ করেন না। তবু তাদের সঙ্গে সময় কাটাতে হয়। এতে পরিবারের বাকিরা খুশি হয় ঠিকই। কিন্তু আমাদের মনের খোঁজ কি কেউ রাখে? তাই না বলতে শিখুন। সহজ কথায়, যেখানে সুখ নেই সেখানে যেতে নেই।

পাঠকের মন্তব্য:

Check Also

ত্রিশের পরেও তারুণ্য ধরে রাখুন

ত্রিশের পরেও তারুণ্য ধরে রাখুন

বয়স ত্রিশ পেরোনোর পর ত্বকে পরিবর্তন আসতে থাকে। তাতে কী! সচেতন থেকে যত্ন নিলেই এড়ানো …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *