Friday , September 24 2021

দেখা গেলো করোনা সংক্রমণের নতুন লক্ষণ!

করোনার ভয়ানক থাবা থেকে বাঁচতে সবাই তৎপর। দিন দিন করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সঙ্গে বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। তবে ছোঁয়াচে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে সুস্থও হয়েছেন অনেক মানুষ।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন- জ্বর, ঠাণ্ডা, কাশি, শ্বাসকষ্ট, চোখে গোলাপি আভা দেখা দেয়া, ঘ্রাণশক্তি ও খাবারের স্বাদ কমে যাওয়া এসব প্রধান উপসর্গ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার। যা আক্রান্তদের মধ্যে গবেষণা করে পাওয়া গেছে। অনেকেই আবার উপসর্গ ছাড়াই করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে সম্প্রতি গবেষকরা জানিয়েছেন নতুন এক তথ্য।

গবেষকরা জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাব্য নতুন একটি উপসর্গ খুঁজে পাওয়া গেছে। একে বলা হচ্ছে ‘কোভিড টোস’। এখন পর্যন্ত এই লক্ষণটি শিশু ও তরুণদের মধ্যেই বেশি দেখা গেছে।

গত মার্চে ইতালির কিছু চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ (ডার্মাটোলজিস্ট) দেখতে পান, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কিছু রোগীর পায়ের পাতা ও আঙুলে প্রদাহ হচ্ছে। এমনকি অঙ্গগুলোর রঙও বদলে যাচ্ছে। সাধারণত ফ্রস্টবাইট বা পার্নিওতে আক্রান্তরা এ ধরনের সমস্যায় ভোগেন। মেরু অঞ্চল বা অতিশীতল এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে এমন শারীরিক সমস্যা বেশি দেখা যায়।

প্রথমে ইতালিতে সবচেয়ে বেশি করোনা সংক্রমিত এলাকাগুলোতে ‘কোভিড টোস’ দেখা গেলেও পরে যুক্তরাষ্ট্রে এর সন্ধান পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যেই আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব ডার্মাটোলজির চিকিৎসকরা কারো শরীরে কোভিড টোস দেখা গেলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে করোনা টেস্ট করাতে পরামর্শ দিয়েছেন।

কোভিড-১৯ রোগের সবচেয়ে ভয়াবহ দিক ধরা হচ্ছে, এতে আক্রান্ত হলে অনেকেরই কোনো ধরনের উপসর্গ দেখা যায় না। ধারণা করা হচ্ছে, অজ্ঞাতসারে তাদের মাধ্যমেই করোনাভাইরাস বেশি ছড়াচ্ছে। এ ধরনের রোগীদের খুঁজে বের করাই বর্তমানে সবচেয়ে বড় কষ্টের। তবে এতদিন যাদের উপসর্গহীন রোগী ভাবা হচ্ছিল, প্রকৃতপক্ষে তারা পুরোপুরি উপসর্গহীন না-ও হতে পারেন। এক্ষেত্রে আশার আলো দেখাচ্ছে কোভিড টোস।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অন্যান্য উপসর্গের সঙ্গে এবার এই তালিকায় পায়ের প্রদাহও (কোভিড টোস) যোগ হতে পারে।

তবে, কোভিড টোস সত্যিই করোনার উপসর্গ এটি এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। অন্য ভাইরাসে আক্রান্তদের পায়ের বর্ণও নীল বা বেগুনি হয়ে যাওয়ার রেকর্ড রয়েছে। সুতরাং এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণের অভাব রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকরা। ইউরোপ ও আমেরিকার চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে এখনো গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সূত্র: ফোর্বস, ইন্ডিয়া টুডে

ক্যান্সার এমনকি করোনাও হার মেনেছে চার বছরের শিশুর কাছে

চার বছর বয়সী ছোট্ট এক শিশু। নাম তার শিবানী। দুরারোগ্য ক্যান্সার এমনকি করোনাভাইরাসও হার মেনেছে তার কাছে।
মনের জোরেই ডিসেম্বরে ক্যান্সারমুক্ত হয় শিবানি। এবার চার বছরের এই মেয়েটি করোনামুক্ত হয়েছে। সীমিত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকা স্বত্ত্বেও তার সুস্থ হয়ে ওঠা নিয়ে সবাই তাজ্জব বনে গেছে। ভাগ্যের জোরেই অসাধ্যকে সাধন করেছে শিবানী।

গালফ নিউজ সূত্রে জানা গেছে, ভারতীয় ওই খুদে এক এপ্রিল দুবাইয়ের আল-ফুতাইম হাসপাতালে সংক্রমণ নিয়ে ভর্তি হয়েছিল। প্রায় তিন সপ্তাহের যুদ্ধের পর অবশেষে এক সপ্তাহ আগে করোনার সংক্রমণমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে শিবানীকে। ২০ এপ্রিল হাসপাতাল থেকে ছাড়া হয়েছে তাকে।

শিবানীর মা পেশায় স্বাস্থ্যকর্মী। মায়ের থেকেই সংক্রমিত হয়েছিল শিবানী, এমনটাই দাবি সেই হাসপাতালের। জানা যায়, উপসর্গ ছাড়াই শিবানী ও তার বাবা সংক্রমিত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিল। গালফ নিউজের সেই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সেই খুদে ও তার মাকে একই আইসোলেশন কেন্দ্রে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। তবে শিবানী ছিল কড়া নজরদারিতে।

মাত্র চার মাস আগে কিডনির ক্যান্সার থেকে রেহাই পায় শিবানী। এরপর সে স্বাভাবিক জীবনে ফেরে। যদিও তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ছিল একবারেই কম। হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেছেন, শিবানীকে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। টানা ২০ দিনের পর্যবেক্ষণে তার নমুনা দুইবার পরীক্ষা হয়েছে। প্রতিবার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। আপাতত ১৪ দিনের হোম কোয়ারান্টাইনে রয়েছে শিবানী।

অন্যদিকে শিবানীর মাও সংক্রমণমুক্ত। তাকেও সতর্কতা অবলম্বনে আরো কিছুদিন পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সরকারি সূত্র মতে, করোনা সংক্রমণমুক্তের বিচারে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সর্বকনিষ্ঠ শিবানী। এর আগে সাত বছরের এক সিরিয়ান কিশোরী আর নয় বছরের ফিলিপিনো কিশোর আবুধাবিতে সংক্রমণমুক্ত হয়েছে।

পাঠকের মন্তব্য:

Check Also

করোনা মহামারি কবে বিদায় নিবে? যা বলছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

করোনা মহামারি কবে শেষ হবে তা বিশ্ববাসীর হাতেই রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *