স্কুলে প্রেমিকার সঙ্গে অ’প্রীতিকর অবস্থায় দেখে ফেলাই কাল হলো শিক্ষক উৎপলের?

সাভারে হাজি ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক উৎপল কুমার স’রকারকে হ’’ত্যার মূল কারণ ছিল ‘প্রেমিকার সঙ্গে অ’ভিযুক্ত ছাত্রকে অপ্রীতিকর অবস্থায় দেখে ফেলা’। নি’হত উৎপলের সহকর্মী, শিক্ষার্থী, প্রত্যক্ষদর্শী, স্কুলের স্টাফ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

শিক্ষক উৎপল কুমার স’রকারকে স্টাম্প দিয়ে পি’টিয়ে হ’’ত্যার ঘটনায় প্রধান আ’সামি এবং ওই প্রতিষ্ঠানের দশম শ্রেণীর ছাত্র আশরাফুল আহসান জিতুকে গ্রে’প্তার করেছে র‍্যা’ব। গাজীপুরের শ্রীপুর থেকে তাকে গ্রে’প্তার করা হয়। আজ বুধবার সন্ধ্যায় র‍্যা’বের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক হিসেবে কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বুধবার সকালে পুলিশি জি’জ্ঞাসাবাদের পর তাকে ওই হ’’ত্যা মা’মলায় জ’ড়িত থাকার স’ন্দেহে ১০ দিনের রি’মান্ড চেয়ে আ’দালতে পাঠালে আ’দালত পাঁচ দিনের রি’মান্ড মঞ্জুর করে। বি’ষয়টি নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম কামরুজ্জামান। যে স্ট্যাম্প দিয়ে শিক্ষক উৎপলকে পে’টানো হয়েছে, সেটিও জ’ব্দ করা হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।

কী কারণে এভাবে উৎপল কুমার স’রকারকে পি’টিয়ে হ’’ত্যা করা হয়েছে এ বি’ষয়ে জানতে চাইলে কলেজের সামনের মার্কে’টের মালিক ইমান উদ্দিনের বলেন, ‘আশরাফুল ইসলাম জিতুর বাবা উজ্জ্বল হোসেনের ব্যবসায়িক পার্টনার আছেন এক ব্যক্তি। তাদের হোটেল ব্যবসা আছে। তার শ্যালিকার ছোট বোন একই কলেজে পড়ে। তার সঙ্গে ছাত্রের আগে থেকে প্রেমের সম্পর্ক।

কিছুদিন আগে স্কুলের একটি কক্ষে তাদের অপ্রীতিকর অবস্থায় দেখার পর শিক্ষক উৎপল তাদের শাসন করেন। ওই মেয়ের পরিবারকে তিনি ফোন করে সব জানিয়ে সতর্কও করেন। মেয়েটি ছেলেটিকে এসব বি’ষয় জানালে সে ক্ষু’ব্ধ হয়েই ওই শিক্ষককে পি’টিয়েছে। সেদিন তারা তিনজন ছিল। পে’টানোর পর চারজন এক সঙ্গে হেঁটে চলে যায়’।

প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সাইম ইসলাম বলেন, ‘জিতুর সঙ্গে একটি মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। স্যার সেই মেয়ের বাসায় ফোন করে শক্তভাবে বিচার দিয়েছিলেন যেন মেয়েটা ওই ছেলের সঙ্গে না মেশে। এ ক্ষো’ভ থেকে জিতু স্যারকে খেলার দিন পি’টিয়েছে’। কলেজের হিসাবরক্ষক পারুল আক্তার বলেন, ‘কিছুদিন আগে স্কুলের একটি কক্ষে ওই ছেলে ও মেয়েটাকে অপ্রীতিকর অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু আমরা সেভাবে বিস্তারিত জানি না। মেয়েটা আমাদের কলেজের এক শিক্ষকের ছোট বোন। এর বেশি আর কিছু জানি না আমি’।

চাঞ্চল্যকর এ হ’’ত্যাকাণ্ডের বি’ষয়টি অধিকতর গুরুত্বের সঙ্গে ত’দন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা জে’লার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার (বিপিএম, পিপিএম)।বুধবার দুপুরে আশুলিয়ার চিত্রশাইল এলাকায় হাজী ইউনুছ আলী কলেজ পরিদর্শনে এসে গণমাধ্যম কর্মীদের তিনি এ কথা জানান।

মা’মলায় অ’ভিযুক্ত ছাত্রের বয়স দেখানোর বি’ষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মা’মলায় কী দেখানো হলো এটা গুরুত্বপূর্ণ বি’ষয় না। প্রয়োজনে ডাক্তারি পরীক্ষা করে নিয়ে আসব। অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমরা চেষ্টা করি ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য। এ ছাড়া ত’দন্তে ধীর গতির কোনো কিছু নাই। ঘটনা জানার পর থেকেই পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে। পুলিশের কার্যক্রম প্রথম থেকে স্বাভাবিক গতিতে চলছে। এরই মধ্যে আমাদের বেশ কয়েকটি টিম মানিকগঞ্জ, কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে অ’ভিযান চালাচ্ছে। খুব শিগগিরই মূল আ’সামিকে গ্রে’প্তার করা হবে।

এ সময় ঢাকা জে’লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির, আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম কামরুজ্জামানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কলেজের আইসিটি বিভাগের শিক্ষক মনির হোসেন বলেন, অ’ভিযুক্ত ছাত্র দশম শ্রেণিতে পড়লেও তার বয়স ছিল ১৯। সে ক্লাস নাইনে আমাদের এখানে ভর্তি হয়েছিল। এর আগে সাভারের রাজফুলবাড়িয়া এলাকার একটা মাদ্রাসায় পড়ত। সে ছাত্র হিসেবে খুবই দুর্বল প্রকৃতির উ’চ্ছৃঙ্খল।

কলেজের অধ্যক্ষ সাইফুল হাসান বলেন, যেখানে উৎপলকে পে’টানো হয়, সেই জায়গা কলেজের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার আওতাধীন বলে আশরাফুল ইসলাম জিতু ঘটনার আগে আগে মেইন সুইচ বন্ধ করে দেয়, যেন কোনো কিছু ক্যামেরায় রেকর্ড না হয়।

এ ছাড়া জিতুর প্রকৃত বয়সের বি’ষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের একটি নথি সরবরাহ করেন অধ্যক্ষ। যেখানে আশরাফুল ইসলাম জিতুর পরিচয় লেখা ছিল, বাবা মো. উজ্জ্বল, মা জুলেখা বেগম ও তার জন্ম তারিখ ১৭ জানুয়ারি ২০০৩। সে হিসাবে জিতুর বয়স ১৯ বছর।

অ’ভিযুক্তকে গ্রে’প্তারের দাবিতে বুধবার সকালে তৃতীয় দিনের মতো আশুলিয়ার বিভিন্ন স্থানে এবং ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে অবস্থান নিয়ে বি’ক্ষো’ভ করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।এ ছাড়া সাভার স’রকারি কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও উৎপল কুমার স’রকারকে নি’র্মমভাবে হ’’ত্যার প্র’তিবাদে মা’নববন্ধন ও প্র’তিবাদ সমাবেশ করেছে।

Check Also

‘বাবা এরা আমাকে মেরে ফেলবে, আমাকে বাঁচাও’

‘বাবা এরা আমাকে মেরে ফেলবে, তাড়াতাড়ি আসো, আমাকে বাঁচাও’- শ্বশুরবাড়ি থেকে ফোন করে বাবার কাছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.