Wednesday , July 6 2022

পানি কচুর চাষের সঠিক পদ্ধতি

বাংলাদেশে নানা প্রকার কচু জন্মে থাকে। এদের মধ্যে পানিকচু, মুখীকচু, পঞ্চমুখীকচু, দুধকচু, ওল কচু, মানকচু প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। নিম্নে পানিকচুর চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

উপযোগী জমি ও মাটি : বৃষ্টি বা সেচের পানি সহজেই ধরে রাখা যায় এ ধরনের মাঝারি নিচু থেকে উঁচু প্রকৃতির দোআঁশ ও এঁটেল দোআঁশ মাটিযুক্ত জমি পানিকচু চাষের জন্য উপযোগী।

জাত নিবার্চন : বাংলাদেশে অনেক জাতের পানিকচুর চাষ হয়। এর মধ্যে লতিরাজ জাতের পানিকচুর প্রচুর লতি উৎপন্ন হয়।

চারা রোপণের সময় : সাধারণত অগ্রহায়ণ থেকে ফাল্গুন মাসে পানিকচুর চারা রোপণ করতে হয়। তবে আগাম ফসলের জন্য আশ্বিন-কার্তিক মাসেও চারা লাগানো যায়।

জমি তৈরী : দুই-তিনটি চাষ ও মই দিয়ে থকথকে কাদাময় করে পানি কচুর জন্য জমি তৈরি করতে হয়।

সার প্রয়োগ : পানিকচু চাষের জন্য হেক্টরপ্রতি ১০ টন গোবর, ১৫০ কেজি ইউরিয়া, ১২৫ কেজি টিএসপি, ১৫০ কেজি এমওপি, ৯০ কেজি জিপসাম ও আট কেজি দস্তা সার প্রয়োগ করতে হয়। শেষচাষের সময় গোবর, টিএসপি, জিপসাম ও দস্তা সার প্রয়োগ করে মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। আর ইউরিয়া ও এমওপি সার সমান দুই কিস্তিতে চারা রোপণের ২০-৩০ দিন পর প্রথম কিস্তি এবং ৬০-৯০ দিন পর দ্বিতীয় কিস্তিতে উপরি প্রয়োগ করে হাত দিয়ে মাটির সাথে ভালো করে মিশিয়ে দিতে হয়।

চারা রোপণ পদ্ধতি : জমি তৈরি করার পর ৬০ সে.মি. দূরে দূরে সারি করে প্রতি সারিতে ৪৫ সে.মি. পর পর (৫-৬ সে.মি. গভীরে) পানিকচুর চারা রোপণ করতে হয়। এ দূরত্ব অনুসারে প্রতি হেক্টরে প্রায় ৩৭ হাজার (বিঘায় ৫০০০) চারার প্রয়োজন হয়।

পরবর্তী পরিচর্যা : প্রয়োজনমতো নিড়ানি দিয়ে পানিকচুর তে সব সময় আগাছামুক্ত রাখতে হবে। গোড়ায় চলমান ও অগভীর পানি পানিকচু গাছের দ্রুত বৃদ্ধির সহায়ক। তাই চারা রোপণের পর থেকে ফসল তোলার আগ পর্যন্ত জমিতে ২-৫ সে.মি. পানি আটকিয়ে রাখতে হয়। তা ছাড়া পানি কচুর সঠিক বাড়-বাড়তির জন্য মাঝে মাঝে জমি থেকে পানি বের করে দিয়ে হাত বা পা দিয়ে জমির মাটি নেড়েচেড়ে দিতে হবে। দুই-তিন দিন জমি শুকানোর পর আবার পানি সেচ দিতে হবে।

পোকা মাকড় ও রোগবালাই দমন : পোকার মধ্যে মাকড় ও লেদা পোকা এবং রোগের মধ্যে পাতার দাগ পানিকচুর ক্ষতি করে। সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার (আইপিএম) মাধ্যমে এসব পোকামাকড় ও রোগবালাই দমন করতে হবে।

ফসল সংগ্রহ ও ফলন : পানিকচুর চারা গজানোর ৬০-৯০ দিনের মধ্যে লতি তোলার উপযোগী হয়। ১০-১৫ দিন পর পর লতি তোলা যায়। আর চারা রোপণের ১৪০-১৮০ দিনের মধ্যে পানিকচুর কাণ্ড সংগ্রহের উপযোগী হয়। উন্নত পদ্ধতিতে পানিকচু চাষ করলে প্রতি হেক্টর জমি থেকে ২৫-৩০ টন কাণ্ড এবং ১০-১২ টন লতি পাওয়া যায়।

সূত্র : এগ্রোবাংলা ডটকম
লেখক: মো: আবদুর রহমান

Check Also

আজোয়া, মরিয়মসহ সৌদির বিভিন্ন খেজুর চাষ হচ্ছে ভোলায়

সৌদি আরবের খেজুর এখন চাষ হচ্ছে দ্বীপ জেলা ভোলার বোরহানউদ্দিনে। সৌদি প্রবাসী মো. মোসলেম উদ্দিন …

Leave a Reply

Your email address will not be published.