জয়নাল হাজারীর সঙ্গে সিঙ্গাপুরে যাওয়া হলো না জেবার

রাজনৈতিক জীবনের পুরো সময় আলোচনায় ছিলেন প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন হাজারী। ব্যক্তিগত জীবনে ‘চিরকুমার’ ছিলেন জয়নাল হাজারী। কলেজ জীবনে প্রেমিকা বিজুকে হারিয়ে তার বিরহে আর বিয়ে করেননি বলে দাবি করেছিলেন তিনি। পাশাপাশি জয়নাল হাজারীর একটি পত্রিকাও ছিল। এছাড়া তিনি ফেসবুকে একটি লাইভ অনুষ্ঠান পরিচালনা করতেন। যেখানে সমসাময়িক বিষয়াবলি নিয়ে বিশ্লেষণ করতেন। মাঝেমধ্যে সেসব আলোচনা সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচ্য বিষয় হতো। কখনো কখনো পরিণত হতো সমালোচনায়। এ ছাড়া ওই লাইভে সংবাদ বুলেটিন প্রচার করতেন।

ওই সংবাদ বুলেটিনে তিনি জেবা নামের একজন মেয়েকে নিযুক্ত করেছিলেন। অবাধ বুলেটিন প্রচারের জন্য জয়নাল হাজারী যেখানে যাবেন সেখান থেকেই প্রচার করবেন জানিয়েছিলেন। চিকিৎসার জন্য জয়নাল হাজারী সিঙ্গাপুরে যেতেন। সেখান থেকে বুলেটিন প্রচার অব্যাহত রাখতে চেয়েছিলেন।

জয়নাল হাজারী মৃত্যুর কয়েকদিন আগেই ফেসবুক লাইভে জেবা নামের ওই তরুণীকে উপস্থিত করান। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমাদের এখানে যে মেয়েরা এসেছে তাদের মধ্যে তুমি স্মার্ট। তুমি যদি সব কিছু ঠিকঠাক ম্যাচ করতে পারো, তাহলে আমরা অনুষ্ঠান তোমাকে নিয়েই করব। আমাদের এখানে এখন পর্যন্ত যত মেয়ে এসেছে তুমি তাদের মধ্যে স্মার্ট এবং দেখতেও সুন্দর।’

এ সময় জেবা নিঃশব্দে ঠোঁট প্রসারিত করে হেসে ওঠেন। কথোপকথন স্টাইলে ওই লাইভে জেবাকে জয়নাল হাজারী বলেন, ‘আমাদের প্রথম প্রশ্ন- তুমি কি গান গাইতে পারো?’ জেবা বলেন, ‘চেষ্টা করব, মোটামুটি।’ জয়নাল হাজারী বলেন, ‘চেষ্টা করা এক জিনিস আর পারো কি না, গাও কি না?’ জেবা ফের বলেন, ‘মোটামুটি।’

এ সময় জয়নাল হাজারী বলেন, ‘গান গাওয়ার ক্ষেত্রে মোটামুটি শব্দটা আমার কাছে রহস্যজনক। অবশ্য কেউ নিজেকে নিয়ে বলতে পারে না যে আমি ভালো গান গাই বা খারাপ গাই। যদি তুমি মোটামুটি বলো, তাহলে তুমি নিজের কথা নিজে বলছ না। মোটামুটি মানে তুমি পারো, আমার মনে হয় তুমি ভালোই গাও। আজকে তোমাকে আমি গাইতে বলব না। তুমি যদি রেগুলার আসা-যাওয়া করো, তাহলে আমাদের শ্রোতাদের গান শোনানো হতে পারে।’

নাচের কথা জিজ্ঞেস করতেই জেবা বলেন, ‘অ্যাজ এ মডেল, নাচ তো আমাকে পারতেই হবে। যেহেতু আমি মিডিয়ায় কাজ করি। নাচ পারি।’ জয়নাল হাজারী জেবাকে পরের প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেন, ‘তোমার দেশের বাড়ি কোথায়?’ জেবা বলেন, ‘বগুড়াতে।’ জয়নাল হাজারী ফের জিজ্ঞেস করেন, ‘বগুড়া কোন উপজেলা?’ জেবা বলেন, ‘শিবগঞ্জ।’

জয়নাল হাজারী জানালেন, তার এই লাইভ প্রগ্রাম বিভিন্ন জায়গা থেকে করতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা সিঙ্গাপুর থেকেও এই লাইভ প্রগ্রাম করব। এমনকি মালয়েশিয়াতেও করতে হবে। মালয়েশিয়া আমাদের কাছে ডালভাত। আমরা যদি সিঙ্গাপুরে করি, তুমি আমাদের সঙ্গে যাবে কি না? ‘হ্যাঁ, ইনশাআল্লাহ। যদি ভালো নিউজ প্রেজেন্টার হতে পারি, কেন যাব না?’ জয়নাল হাজারী বলেন, ‘তোমার গার্ডিয়ান রাজি হবে?’ জেবা বলেন, ‘আমার মা-বাবা সব সময় আমাকে সাপোর্ট করেন। সিঙ্গাপুর কেন, আমার মা-বাবা বলেন, ভালো কাজের জন্য দেশের ওই প্রান্তে চলে যাও।’ জয়নাল হাজারী বলেন, ‘আমরা খুবই খুশি হলাম যে তুমি আমাদের সঙ্গে সিঙ্গাপুর যেতে রাজি আছ।’ কিন্তু সিঙ্গাপুর থেকে জয়নাল হাজারীর এই লাইভ বুলেটিন করার সুযোগ হয়নি। জেবারও সিঙ্গাপুর যাওয়ার সুযোগ হলো না। তার আগেই প্রয়াত হলেন জয়নাল হাজারী।

পাঠকের মন্তব্য:

Check Also

খেলা দেখতে গেছেন মালিক, ৫ গরু নিয়ে গেল চোর!

নেত্রকোনার মদনে চলমান বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখতে চায়ের দোকানে যান লুৎফর রহমান। খেলা শেষে গোয়ালঘরে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *