Thursday , June 30 2022

স্পিকার বাজিয়ে ধ;র্ষ;ণ, উচ্চশব্দে মিলিয়ে গেল শিক্ষার্থীর চিৎকার

কক্সবাজারের টেকনাফে অটোরিকশা থেকে তুলে মার্কেটের ভেতরে নিয়ে উচ্চশব্দে স্পিকার বাজিয়ে এক মাদরাসা শিক্ষার্থীকে ধ;র্ষ;ণ করা হয়েছে। কয়েকদফা তাকে ধ;র্ষ;ণ করা হয়। স্পিকারের ধুমধাড়াক্কা আওয়াজে ১৬ বছরের ঐ ছাত্রীর আ;র্ত; চিৎকার মিলিয়ে গেলেও মুছতে পারেনি ধ;র্ষ;ণে;র কলঙ্ক।

ঘটনাটি ঘটেছে গত ৫ ডিসেম্বর সকালে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মহেশখালীয়া পাড়ায়। ঐ ঘটনায় তজিল নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী মাদরাসা শিক্ষার্থীর মা। অভিযুক্ত তজিল টেকনাফ সদর ইউনিয়নের হাজম পাড়ার আবদুল রকিম বলির ছেলে। তার দুই স্ত্রী আছে।

টেকনাফ মডেল থানায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা করার পর ধ;র্ষ;ণের শিকার ছাত্রীর মেডিকেল টেস্ট ও আদালতে জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। জবানবন্দি দেওয়ার পর তাকে মায়ের হেফাজতে দেওয়া হয়।

জবানবন্দিতে ধ;র্ষ;ণের শিকার ছাত্রী জানায়, ঐদিন দুপুরে ঘটনাস্থলে পুলিশ যাচ্ছিল। মোবাইলে সেই খবর আগেই জানতে পারে ধ;র্ষ;ক তজিল। এরপর ঐ ছাত্রীকে নিয়ে ঘরের পেছনের দরজা দিয়ে বের হয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। সেখানেও চলে রাতভর ধ;র্ষ;ণ। পরদিন সকালে একটি অটোরিকশায় করে ধ;র্ষ;ণের শিকার ছাত্রীকে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।

মামলা ও জবানবন্দি সূত্রে জানা গেছে, ঐ ছাত্রী টেকনাফ সদর ইউনিয়নের গোদারবিল রিয়াদুল জান্নাহ মাদরাসার ১০ম শ্রেণিতে পড়ত। তার প্রতি দীর্ঘদিন ধরেই লোলুপ দৃষ্টি পাশের গ্রামের বিবাহিত যুবক মো. তজিলের। সে ঐ ছাত্রীকে পেতে বিভিন্ন সময় তার পরিবারের ওপর চাপ প্রয়োগ ও বাড়ি-ঘরে হা;ম;লার হুমকি দিতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৯ মে ভুক্তভোগী ছাত্রীর ডিগ্রি পড়ুয়া বড় বোনকে বাড়িতে ঢুকে মা;র;ধ;র করে তজিল। ঐ ঘটনার তার বিরুদ্ধে টেকনাফ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ঐ ছাত্রীর বোন। পরবর্তীতে পুলিশ মধ্যস্থতা করে দিলেও চুপ থাকেনি তজিল।

এদিকে, মেয়ের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তাকে একই ইউনিয়নের খোনকার পাড়ায় নানাবাড়িতে সরিয়ে রাখেন মা। ঐ মাদরাসা ছাত্রী সেখান থেকেই প্রতিদিন সকালে প্রাইভেট পড়তে আসত গোদারবিল। ঘটনার দিনও সে প্রাইভেট পড়তে আসছিল। রাস্তা থেকেই তাকে তুলে নিয়ে লাগাতার ধ;র্ষ;ণ করে তজিল।

ধ;র্ষ;ণের শিকার ছাত্রী বলে, আমাকে টমটম থেকে টে;নে;হিঁ;চ;ড়ে নামিয়ে আর একটা টমটমে তুলে কিছু দূর নিয়ে একটি মার্কেটের উপর তলায় আটকে রেখে মারধর ও ধ;র্ষ;ণ করেছে মো. তজিল। ঐ সময় ঘরের ভেতর উচ্চশব্দে স্পিকার বাজছিল, আমি বারবার চিৎকার করলেও তা স্পিকারের শব্দে ঢাকা পড়ে যাচ্ছিল। পুলিশ আসার আগে মোবাইলে তাকে জানিয়ে দেওয়া হয়। যার কারণে আমাকে আবার সেখান থেকে নিয়ে অন্য একটি ঘরে নিয়ে পুরো রাত ধ;র্ষ;ণ ও নি;র্যা;তন চালায় তজিল।

টেকনাফ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আবদুল আলিম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর ধ;র্ষ;ণের শিকার মাদরাসা ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। ঐ ঘটনায় মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা ও জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

এদিকে অভিযুক্ত মো. তজিল বলেন, ঐ মাদরাসা ছাত্রীর সঙ্গে আমার প্রেমের সম্পর্ক আছে। তার পরিবার বাধা দিচ্ছে, তাই সে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে এটি মীমাংসা হয়ে যাচ্ছে।

Check Also

ছোট্ট ওয়ালিদের লাশ দেখে মায়ের চিৎকার, সারা শরীরে খুনিদের নৃশংসতা

ওয়ালিদ। বয়স মাত্র তিন বছর। কথা বলতো আধো আধো স্বরে। হাসি-খুশি আর দুষ্টুমিতে মাতিয়ে রাখতো …

Leave a Reply

Your email address will not be published.